জানা-অজানা

রহস্যময়, বৈচিত্রময় আর আশ্চর্যময় সমুদ্র

জানা-অজানা ১০

আল্লাহ তায়ালার এই সৃষ্টিজগত কতইনা বিচিত্র! রাতের আঁধারে নিস্তদ্ধ পৃথিবীতে যখন ওই তারার দেশে মন হারিয়ে যায়, তখন মনে হয়, কত ক্ষুদ্র, কত তুচ্ছ আমি! অথচ সেই ক্ষুদ্র নিজেকেই যেন নিজে চিনে উঠতে পারি না। সেখানে, এই পৃথিবীর কতটুকুই বা আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে আছে? পৃথিবী বড়ই বৈচিত্রময়। ক্ষণে ক্ষণে আমাদের মুগ্ধ করে। সেই পৃথিবীর বড় অংশ সমুদ্র, সেই সমুদ্রে যে অসংখ্য বৈচিত্র লুকিয়ে থাকবে তাইতো স্বাভাবিক। সমুদ্রের জানা অজানা কিছু বিষয় নিয়েই এই লেখা।

ঢেউ
সোর্স

১. পৃথিবীপৃষ্ঠের অধিকাংশই সমুদ্র। পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জলরাশি দিয়ে পরিবেষ্টিত, যার ৯৬.৫ ভাগই সমুদ্র। এদের মধ্যে আছে পৃথিবীর ৫ মহাসমুদ্র, আটলান্টিক মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর ও উত্তর মহাসাগর।

২. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলরাশি প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean)। পৃথিবীপৃষ্ঠের ৩০% স্থান দখল করে আছে কেবল এই মহাসাগর। Pacific Ocean-এর নাম এসেছে ল্যাটিন নাম Tepre Pacificum থেকে। এর অর্থ peaceful sea, বাংলা নামও তাই,প্রশান্ত মহাসাগর।

সূর্যাস্ত
প্রশান্ত মহাসাগরের সূর্যাস্ত। সোর্স

৩. রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,

বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, সেই সিন্ধু যে মানুষ খুব বেশি দেখতে পেরেছে তা নয়। সমুদ্রের তলদেশের চেয়ে মানুষ মহাকাশ আর বিভিন্ন গ্রহ উপগ্রহ সম্বন্ধে অনেক বেশি জেনেছে, সমুদ্রের তলদেশের মাত্র ৫ ভাগই সে উম্মোচন করতে পেরেছে। আরো কত জানা বাকিই আছে!

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?

(কুরআন: ৫৫)

৪. সমুদ্রের গড় গভীরতা প্রায় ২.৫ মাইল। এখন পর্যন্ত জানা সমুদ্রের গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। এর গভীরতম স্থানের গভীরতা ১১ কি.মি। অর্থাৎ, এটি এখানে একটির উপর একটি এভাবে মোটামুটি ১২ তলাবিশিষ্ট ৩০ টি বাড়িকে জায়গা করে দেওয়া যাবে। অবাক লাগছে না?

৫. পৃথিবীর মোট প্রাণের ৯৪% জলে থাকে। এদের মধ্যে ৯০% থাকে সমুদ্রের গহীনে (abyssal zone)। সামুদ্রতলে বাস অবিশ্বাস্য সব প্রাণীদের। এদের মধ্যে কিছুর ছদ্মবেশ ক্ষমতা অবাক করে, করতে বাধ্য‍!

৬. সমুদ্রের ৩০০ ফুটের পর আর সূর্যালোক পৌছুতে পারে না। সূর্যের আলোর স্পর্শ না পাওয়া স্থানগুলোকে গভীর সমুদ্র (Deep Sea) বলা হয়।

৭. সমুদ্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘর। সমুদ্রতলে যত নিদর্শন, ধ্বংসাবশেষ আর ভাঙা জাহাজের টুকরো আছে, বিশ্বের সব জাদুঘর মিলেও তত নেই।

৮. পৃথিবীর অাগ্নেয়গিরিগুলোর অগ্নুৎপাতের ৯০% সাগর-সমুদ্রে ঘটে।

৯. পৃথিবীর বৃহত্তম পর্বতশ্রেণী সমুদ্রতলে, মধ্যসাগর শৈলশিলা (Mid-Oceanic Ridge), যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০০০ মাইল বা ৫৬০০০ কি.মি। পর্বতগুলো আটলান্টিক সমুদ্রের মধ্যভাগ হতে প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। আরো মজার বিষয় হলো, এখানে মানুষের পদচিহ্ন পড়ার আগে চাঁদে মানুষ পা দিয়েছে!

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,

একটি ধানের শীষের উপর

একটি শিশির বিন্দু!

১০. সমুদ্রে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবন্ত কাঠামো, বৃহৎ প্রবাল-প্রাচীর (Great Barrier Reef), যার মাপ প্রায় ২৬০০ কি.মি। এমনকি চাঁদ থেকেও একে দেখা যায়!

তথ্যসুত্র গুলিঃ
7CONTINENTSNatGeo
ট্যাগ গুলিঃ

এরকম আরও আর্টিকেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close