জানা-অজানানির্বাচিত

পিপীলিকা: জানা-অজানা কথা

বিভিন্ন তথ্য, যা আশ্চর্য করবে!

পিলপিল পায়ে হেঁটে চলে পিপীলিকা। সারিবদ্ধভাবে, কোন অনিয়ম নেই। ক্ষুদ্র, তুচ্ছ যাই বলি না কেন, তাদের কাছে শেখার অনেক কিছু আছে। পরিশ্রমী, কর্মঠ আর ঐক্যবদ্ধ প্রাণীটিকে নিয়ে এই লেখা।

১. পিঁপড়েরা অতিমানবীয় থুক্কু অতিপীপিলিকীয় শক্তিশালী!

ভারোত্তলন!

হ্যাঁ, অদ্ভুতত লাগতে পারে, কিন্তু আসলেই পিঁপড়েরা অনেক শক্তিশালী। তারা তাদের ওজনের প্রায় ১০ থেকে ৫০ গুণ বহন করতে পারে। সহজ কথা নয়, একটা ৫০ কিলোগ্রাম মানুষের পক্ষে ২৫০০ কিলোগ্রাম বহন করার সমতূল্য! এশিয়ার weaver জাতের পিঁপড়েরা তাদের দেহের ১০০ গুণ পর্যন্ত বহনে সক্ষম!

পিঁপড়ের শক্তির উৎস কি?

বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, পিঁপড়েদের ক্ষুদ্রাকৃতিই তাদের এই শক্তির কারণ। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, তাদের ক্ষুদ্র দেহের কারণে মাংসপেশীর প্রস্থচ্ছেদ দেহের আকারের সাপেক্ষে অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় বৃহত্তর। ফলে তারা অধিক শক্তি উৎপন্ন করতে পারে।

২. পিঁপড়ের ফুসফুস নেই

ক্ষুদ্র আকৃতির জন্য, আমাদের মত জটিল শ্বাসযন্ত্রের জন্য পর্যাপ্ত স্থান পিঁপড়েদের দেহে নেই। তবে দেহে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌছে দিতে তাদের নিজস্ব শ্বসনপদ্ধতি আছে।

পিঁপড়েরা কিভাবে শ্বাস নেয়?

স্পাইরাকলস (Spiracles) এর মাধ্যমে পিঁপড়েরা শ্বাস নেয়, যা কিনা পিঁপড়ের দেহের পাশে রন্ধ্রের সারি। স্পাইরাকলসগুলো নলের মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত থাকে, যা দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌছে দিতে সাহায্য করে। তাদের চলাফেরা অক্সিজেন সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং এরসাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন করতে।

পিঁপড়ের কান নেই!

৩. পিঁপড়ের কান নেই

অন্য কীটপতঙ্গের থেকে ব্যতিক্রম, পিঁপড়েদের কান নেই। তার মানে কিন্তু এই নয় যে তারা বধির!

পিঁপড়েরা কিভাবে শুনতে পায়?

পিঁপড়েরা শোনার জন্য ভাইব্রেশন বা কম্পনের সাহায্য নেয়। তারা খাবারের সন্ধান পেলে বা বিপদ দেখলে কম্পনের সাহায্যে সংকেত দেয়।

৪. পিঁপড়ের সংখ্যা অবাক করে

বিশ্বজুড়ে আছে পিঁপড়েরা!

বাস্তবিকই পিঁপড়ের সংখ্যা আপনাকে অবাক করবে। পৃথিবীতে ১০০০০ এরও বেশি প্রজাতির পিঁপড়ের কথা জানা গেছে। প্রতি একজন মানুষের বিপরীতে পিঁপড়ের সংখ্যা ১ মিলিয়ন (দশ লাখ)! আনুমানিক প্রায় ১০ কোয়াড্রিলিয়ন (অর্থাৎ, ১ এর পাশে ১৬ টি ০, মানে ১ হাজার কোটি কোটি) পিঁপড়ের বাস এই পৃথিবীতে। অ্যান্টার্কটিকা, সুমেরু আর হাতে গোনা কিছু দ্বীপ বাদে সারা পৃথিবী জুড়েই পীপিলিকারা ছড়িয়ে আছে।

৫. পিঁপড়েরা কৃষক

আশ্চর্য লাগুক বা না লাগুক, এটাই সত্য, মানুষ যেভাবে গরু-ছাগল, মুরগী, মাছ পালন করে খাদ্যের উৎস হিসেবে, তেমনি পিঁপড়েরাও মানুষ বাদে একমাত্র প্রাণী যারা অন্যান্য কীট-পতঙ্গদের পালন করে, এদের মধ্যে বিশেষভাবে আছে এফিড। পিঁপড়েরা শিকারী প্রাণীদের থেকে রক্ষা করে ও ঝড় বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে নিজেদের বাসায় আশ্রয় দেয় যেন তারা এদের থেকে মধুর নির্যাস পেতে পারে।

৬. পিঁপড়ের দুটো পেট

আরেকটা মজার বিষয়, পিঁপড়ের পেট দুটি। তার মানে এই নয় পিঁপড়েরা লোভী। বরং, এটা তাদের উদারতার একটি দিক। তাদের একটি পেট নিজেদের খাদ্যের প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং অপরটি অন্য পিঁপড়েদের ভাগ দেওয়ার জন্য।

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রপালাক্সিস (trophallaxis), এবং এটি একটি কলোনির কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকর। এটি খাদ্যসন্ধানী পিঁপড়েদের পিছিয়ে পড়া এবং রাণীর নির্দেশ পালন ও বাসা তৈরিতে ব্যাস্ত পিঁপড়েদের খাদ্যসংস্থানের সুযোগ করে দেয়।

পিঁপড়ের পেট দুটো!

 

৭. পিঁপড়েরা দাসপ্রথায় বিশ্বাসী

আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেছিলেন, কিন্তু পিপীলিকা সমাজ থেকে দাসপ্রথা দুর হয়নি। শুনতে অদ্ভুত লাগবে, পিঁপড়েদের কিছু প্রজাতি, যেমন Polyergus Lucidus এর মধ্যে এটা দেখা যায়। এদেরকে দাস নির্মাতা (slave-making) পিঁপড়ে বলা হয়। তারা প্রতিবেশী কলোনীগুলোকে আক্রমণ করে, সেখানকার অধিবাসীদের বন্দী করে এবং বাধ্য করে তাদের সাথে কাজ করতে। একে বলা হয় দাস লুন্ঠন (slave raiding)।

৮. পিঁপড়েরা আছে ডাইনোসরের সময় থেকে

হাভার্ড আর ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে ক্রিটাসাস যুগে পিঁপড়েদের উত্থান।  ১৩০ মিলিয়ন বছর ধরে তারা হেঁটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর বুকে!

তথ্যসুত্র গুলিঃ
rentokilPixabay
ট্যাগ গুলিঃ

এরকম আরও আর্টিকেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close