জানা-অজানা

আমাদের বাসস্থান পৃথিবী: নিজ গ্রহের এই বিষয়গুলো জানি তো?

 

তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত।

(সূরা আল বাকারা; আয়াত:২৯)

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই পৃখিবীতে তার প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন এবং আমাদের জন্য এই জমিন সৃষ্টি করেছেন। নিজের অক্ষে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে সাথে দিন কেটে যায়, আর তার অবিরত সূর্যকে প্রদক্ষিণের সাথে কেটে যায় বছর। এভাবেই সময় কেটে যায়, কিন্তু যে সুন্দর গ্রহটিতে আমাদের প্রভু প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন, তাকে নিয়ে কি আমরা ভেবে দেখি? কখনো কি অবাক হয়েছি, কিভাবে তিনি পৃথিবীকে গড়েছেন?

যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।

(সূরা আল ইমরান; আয়াত: ১৯০)

 

পৃথিবী

পৃথিবী সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ। আকারের দিক দিয়ে ৮ গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম। এর ব্যাসার্ধ ৬৩৭১ কিলোমিটার। পৃথিবীর ভর প্রায় ৬ সেপটিলিয়ন কিলোগ্রাম, মানে খুব বেশি না কিন্তু, ৬*১০^২৪ কিলোগ্রাম, অর্থাৎ কিনা ৬ এর পাশে ২৪ টি ০। এর ঘনত্ব সৌরজগতে সর্বাধিক। প্রতি ঘন সে.মি. এ ৫.৫২ গ্রাম। বয়স আনুমানিক প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর। এর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। এখন পর্যন্ত পৃথিবী ছাড়া কোথাও প্রাণের স্পন্দনের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৭৫০ কোটির কাছাকাছি।

কিছু পুরনো ধারণা

পূর্বে পৃথিবী নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা ছিলো, ভাবা হত, সৌরজগতের কেন্দ্রে পৃথিবী, আর তাকে সূর্যসহ গ্রহেরা প্রদক্ষিণ করে। পূর্বে বিশ্বাস ছিলো এবং এখনও অনেকে বিশ্বাস করে পৃথিবী আসলে সমতল।

নামকরণ

পৃথিবী বা Earth-ই সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ, যার নাম কোন রোমান বা গ্রীক দেবতার নামে হয় নি। পুরনো ইংরেজি ও জার্মান শব্দের সমন্বয়ে এর নামকরণ হয়েছে। শব্দটির উৎপত্তি ‘eor(th)e’ ও ‘ertha’-থেকে যার অর্থ ভূমি।

ঘূর্ণন ও অধিবর্ষ (লিপ ইয়ার)

পৃথিবী মোটামুটি ৬৬.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে ঘোরে। পৃথিবী নিজ অক্ষের চারপাশে ২৪ ঘন্টায় ঘুরে আসে বলে আমরা জানি, তবে প্রকৃতপক্ষে সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। আবার বছর ৩৬৫ নয়, ৩৬৫.২৫৬৪ দিনে হয়। একারণে ৪ বছর পরপর লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়।

পৃথিবীর ঘূর্ণনগতি প্রতিনিয়ত কমছে। তবে তা খুবই ধীরে, মোটামুটি প্রতি একশো বছরে ১৭ মিলিসেকেন্ড। যাহোক, যদি কিয়ামত না আসে এবং এভাবেই চলতে থাকে, তবে প্রায় ১৪ কোটি বছর পরে ২৫ ঘন্টায় দিন হবে।

নীল গ্রহ ও সমুদ্র

পৃথিবীর উপরিপৃষ্ঠের ৭১ ভাগ জলাবৃত। হ্যাঁ, একারণেই পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয়। এই পানির ৯৭ ভাগই লবণাক্ত। মাত্র ৩ ভাগ মিঠা পানি। এর মধ্যে ২ ভাগের বেশি বরফ আর হিমবাহ। মানে, নদী, হ্রদগুলোতে মাত্র ১ ভাগেরও কম পানি প্রবাহিত হয়। অধিকাংশ জলাবৃত হওয়ায় পৃথিবী উজ্জল গ্রহগুলোর একটি। কারণ পানি সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে। পৃথিবীই সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যেখানে বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প এই তিনটি রূপের সবকটিতেই পানি বিরাজ করে।

মরুভূমি

পৃথিবীর ২৯ শতাংশ ভূমি, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মরুভূমি। বিষয়টা একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু এখানে বলে রাখা জরুরী, মরুভূমি মানে উত্তপ্ত ধু ধু বালুময় প্রান্তরই কেবল না। বরং সংজ্ঞানুযায়ী, বছরব্যাপী কোন স্থানে আদ্রতার অভাব থাকলেই তা মরুভূমি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি কি বলুন তো? সাহারা মরুভূমি? একটু ভুল হয়ে গেলো, সঠিক উত্তর অ্যান্টার্কটিকা। সাহারা মরুভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উষ্ণ মরুভূমি। আর অ্যান্টার্কটিকা সর্ববৃহৎ শীতল মরুভূমি।

পৃথিবীর স্তর

পৃথিবীর স্তর

পৃথিবীকে ৩ স্তরে ভাগ করা হয়। ভূত্বক (crust), ভূ-আচ্ছাদন (mantle), ভূ-মজ্জা (core)। ভূ-আচ্ছাদনের দুটি ভাগ, উপরস্থ ভূ-আচ্ছাদন (upper mantle), নিম্নস্থ ভূ-আচ্ছাদন (lower mantle)। আবার ভূ-মজ্জারও দুটি ভাগ, বহিঃস্থ ভূ-মজ্জা (outer core),  অন্তঃস্থ ভূ-মজ্জা (inner core)। পৃথিবীর ভূত্বকে খুব ধীরে বিভিন্ন প্লেট ভেসে বেড়াচ্ছে ভূ-আচ্ছাদনের উপর, মানুষের নখ বড় হওয়ার গতিতে। ভূ-মজ্জা নিকেল-লোহা দিয়ে গঠিত হওয়ায় এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে পৃথিবী একটি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা আবৃত, যা একে সৌরবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।

(সূরা আল মূলক; আয়াত: ৩-৪)

তথ্যসুত্র গুলিঃ
THEFACTSITEEarthlayersUniverseToday
ট্যাগ গুলিঃ

এরকম আরও আর্টিকেল

২ টি কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close