জানা-অজানা

প্রাচীন মিশরীয় পিরামিডঃ এসব পিরামিড ব্যবহার করা হত বিদ্যুৎ তৈরিতে!

প্রাচীন মিশরীয়রা ছিল আমাদের আধুনিক সময় থেকে এগিয়ে,কেননা তারা ব্যবহার করত তারবিহীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

আমরা যদি ভেবে থাকি আমাদের বর্তমান সভ্যতা খুবই বিকশিত এবং আমরা বিজ্ঞানের নানা উচু উচু ধাপ অর্জন করে নিয়েছি ; তবে আমাদেরকে আবারও গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। মিশরে অবস্হিত গিজার বিশাল পিরামিড এখনও পৃথিবীর অনেক বড় রহস্য এবং আশ্চর্য ময় একটি বিষয় ; এদের কেন বানানো হল?  এবং কিভাবেই বা এদেরকে বানানো হল? এর সঠিক এবং স্পষ্ট জবাব অনেক বড় বড় বিজ্ঞানীদের নিকটই নেই।  অনেকে বলেন এই বিশাল পিরামিডগুলো লাশ সংরক্ষন করার জন্য ছিল।  তবে সেসময় কেবল মৃতদেহ সংরক্ষন এর জন্য এত বিশাল বিশাল পিরামিড তৈরি করা হবে এটা মেনে নেয়া যায় না।  এই সকল পিরামিড তৈরির পেছনে অবশ্যই অন্য কোন গোপন কারন লুকায়িত ছিল।

মিশরের পিরামিড এর ভেতর অন্য একটি মহান কারন লুকায়িত ছিল এবং যা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মারাত্বকভাবে সম্পর্কযুক্ত।  মিশর তৎকালীন সময়ে সেই সভ্যতার অনেক উন্নত একটি শহর ছিল।  তাদের ভেতর ইলেকট্রিসিটি,ইলেকট্রোম্যাগনেটিক,ইলেকট্রো কেমিস্ট্রি,হাইড্রোলজি,মেডিসিন,অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি এবং ফিজিক্সের অনেক জ্ঞান ছিলো। যেনে অবাক হবেন যে, মিশরে ইলেকট্রিসিটি তৈরিও করা হত এবং সম্পূর্ণ মিশরে এর ব্যবহারও করা হত।  বাগদাদ ব্যাটারি এবং আর্ক ল্যাম্প সেসময় ইলেকট্রিসিটি থাকার অন্যতম প্রমান।  বাগদাদ ব্যাটারি এবং আর্ক ল্যাম্প নিয়ে অতিশীঘ্রই আরেকটি আর্টিকেল প্রকাশ করব।  যাই হোক, তবে সেসময় মিশরে এই ইলেকট্রিসিটি তৈরি হত কই?  এক্ষেত্রে আপনি নানা মাধ্যম থেকে একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন যে, পিরামিডের ভেতর মশাল জ্বালানোর কোনো চিহ্ন কিন্তু পাওয়া যায়নি ; আবার পিরামিডের ভেতর মশাল রাখার জন্য কোনো হ্যান্ডেল জাতীয় কিছুও ছিল না।  আর এই থেকে বোঝা যায় যে,মিশরবাসীর নিকট আলো জ্বালানোর জন্য বিকল্প কোনো মাধ্যম ছিলো এবং তারা আগুন ব্যবহার করত না আলোর জন্য।  মিশরে প্রাপ্ত অনেক অনেক দেয়াল চিত্রে আপনি দেখতে পাবেন যে, তারা একরকম টর্চ এর মত বাতি হাতে করে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।  আমরা জানি যে শতাব্দী আগে আলেকজান্দ্রিয়য়াতে একটি লাইট হাউজ ছিল, আর যেখানে আর্ক ল্যাম্প ব্যবহার করা হত।  যেখানে এডিসন আরও বহু বছর পর ইলেকট্রিক বাল্বের আবিষ্কার করেছিল।  মিশর শহর এবং আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘরে ২৪ ঘন্টা বাতি জ্বালানোর জন্য দরকার ছিল একটি পাওয়া সোর্স তথা এনার্জি সোর্স।  আর জেনে অাশ্চর্য হবেন যে এই পাওয়ার সোর্স ছিল মিশরে অবস্হিত পিরামিড।

আর এর প্রমান এখনও যদি আপনি একটু নজর দেন তাহলেই বুঝতে পারবেন।  পিরামিডকে সাদা রাখার জন্য চুনাপাথর দিয়ে একে কভার করা হয়েছিল,যদিও পরে অনেক মানুষ সেগুলো সব নিয়ে চলে গিয়েছে। তারা চুনাপাথর গুলোকে এমনভাবে জোড়া লাগিয়েছিলেন যে, এর ভেতর নিয়ে একটি সুই ভিতরে ঢোকানো যেত না।  আর এই চুনাপাথরে ম্যাগনেসিয়াম ছিল না, যার ফলে এটি ভালো ইনসুলেটরও ছিল। আর এরকম ইনসেলসন ব্যবস্হার কারনে পিরামিডের ভেতরের আবেশ বাহিরে কোনোভাবে আসতে পারত না।  আবার পিরামিডের ভেতরকার যেসব চুনাপাথর রয়েছে সেগুলো আরেকটু ভিন্নরকমের চুনাপাথর; যেগুলোর ভেতর ক্রিস্টাল এবং কিছু পরিমানে ধাতু পাওয়া যেত এবং এর ফলে এটি ছিল খুবই ভালো তড়িৎ পরিবাহী।  পিরামিডের কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল গ্রানাইড,আর গ্রানাইড হল খুবই ভালো কন্ডাকটর এবং একটু রেডিও এক্টিভও বটে।  আর যার করনে এর ভেতর আয়নাইজেশন হত। এক্ষেত্রে একটি ইনসুলেটেড ক্যাবলের সাথে আপনি পিরামিডের মিল পাবেন।  পিরামিড পৃথিবীর ইতিহাসে একটি মহান ইঞ্জিনিয়ারিং এর বাস্তবতা।  এখানে পিরমিড থেকে তড়িৎ উৎপাদন করতে কোনো না কোনো সোর্স এর দরকার পরতই।  আর এখানে সেই সোর্স তথা উৎস ছিলো পানি।  গিজার পিরামিডের নিছে অনেক পানির উৎসের অবশিষ্ঠের প্রমান এখনও পাওয়া যায়।  তাছাড়াও পৃথিবীর যেকোন পিরামিডের আশে পাশে আপনি পানির উৎস নিশ্চয়ই পাবেনই।  পিরামিডের নিচের তল তৈরি করা হত চুনাপাথর দিয়ে এবং যার ভিতরপ ভিতরে গ্যাপ রাখা হয়েছিল, অতপর এসব গ্যাপ পানি দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছিল।  পাথরের এই বিশেষ পরদের ভেতর দিয়ে পানি উপরের দিকে চলে যেত; আর এই পানি উপরে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটির নাম অ্যাকুয়াফায়ার।  আর যখন অনেক পানি এই অ্যাকুয়াফায়ারের মধ্য দিয়ে যায় তখন সেখানে ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়।  এতে করে সেখানে ইলেকট্রিসিটি তৈরি হয় ; একে ফিজিও ইলেকট্রিসিটি বলা হয়।  পিরমিডের ভেতর সুরঙ্গ যেগুলো গ্রানাইডে তৈরি ছিলো সেগুলো ইলেকট্রিসিটিতে চার্জিত হয়ে যেত।  আর বিশাল পরিমানে ইলেকট্রিসিটি পিরামিডের উপরের দিকে প্রবাহিত হত।  পিরামিডের ভেতরে তৎকালীন সময়ে সোনার তৈরি ক্যাপস্টোন ছিল, যা এখন নেই।  আর সোনা ইলেকট্রিসিটির অত্যান্ত ভালো কন্ডাকটর। আর এই ক্যাপস্টোন এর মাধ্যমে নেগেটিভ আয়ন আয়নাইজ পিয়ারে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে পিরামিড তড়িৎ উৎপাদনের কাজ করত।

হয়ত নিকোলা টেসলা মিশরবাসীদের ৫০০০ বছর আগে আবিষ্কৃত এই সিস্টেমকে বুঝতে পেরেছিলেন।  টেসলা মানতেন যে ইলেকট্রিসিটিকে তারবিহীন করা যাবে ; আর তিনি এটি করেও দেখিয়েছিলেন।  তিনি  পিরামিডের আদলে একটি টাওয়ার তৈরি করেন এবং সেই টাওয়ারকে মাটির নিচে চুনাপাথরেরর সাথে সংযুক্ত করেন; তারপর অন্যান্য তড়িৎ উৎসকে টাওয়ারের সাথে সংযুক্ত করেন। এভাবে বিশেষ প্রক্রিয়ায় টেসলা তার টেসলা কয়েল এর মাধ্যমে তারবিহীন ভাবে তড়িৎ প্রবাহিত করাতে পেরেছিলেন।  মিশরীয়দের অনেক দেয়াল চিত্রকর্ম থেকে তাদের হাতে এক বিশেষ তারবিহীন তড়িৎ বাতি এর সন্ধান পাওয়া যায়।  আর এটা এখানে বলার অপেক্ষা রাখেনা তড়িৎ উৎস কেথাকার ছিল।  তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, আর সেটি হল ৫০০০ হাজার বছর পূর্বে মানুষ জাতই এই সম্পূর্ণ কাজটি করেছিল না তা পাশাপাশি ভিন্ন তথা অদৃশ্য কোনো অস্তিত্ববিহীন জাতি মানুষকে এতসব আশ্চর্য ময় জিনিস তৈরি করতে সাহায্য করেছিল।  একটা চাপা রহস্য এখানে থেকেই যায়।

Image credits: Billy Carson4BiddenKnowledge, Ancient Codes

ট্যাগ গুলিঃ

এরকম আরও আর্টিকেল

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close