নির্বাচিতপ্রযুক্তি

যেভাবে ব্রাউজার সবসময় আপনার লোকেশন ট্র্যাক করছে

ইন্টারনেট সত্যিই অসাধারন। প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেট আপনার কাজ নানাভাবে সহজ করে দেয়। ধরুন আপনি আপনার সীম রিপ্লেসমেন্ট করবেন , বা অন্য কোনো কাজে আপনার অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যেতে চাইছেন, তবে আপনি আপনার অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের ঠিকানা যানেন না। এমন অবস্হায় আপনি আপনার ব্রাউজারে Robi/GP/Banglalink Customer Care লিখে সার্চ দিলেন, সাথে সাথে দেখা যাবে সার্চ রেজাল্টে আপনার নিকটস্হ অপারেটর কাস্টমার কেয়ারের ঠিকানা শো করবে।

এখানে ব্যাপারটি আপনার কাছে অবাক লাগতে পারে, আপনি ভাবতেই পারেন কিভাবে ব্রাউজার আমার ঠিকানা জানল এবং আমার আসেপাশের কাস্টমার কেয়ারের ঠিকানা দেখিয়ে দিল। আরেকটা উদাহরন দেখা যাক, আপনি গুগলে সার্চ করলেন Best Resturent Nearby Me ; ব্যস! আপনার আসেপাশে থাকা এখন গুগল ম্যাপ রেটিংএ থাকা ভালো ভালো রেস্টুরেন্ট আপনার সার্চ রেজাল্টে সামনে চলে আসবে।

অনেক সময় দেখা যাচ্ছে আপনি ইচ্ছা করেই গুগল ম্যাপ এর মত কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করলেন, আর সেখানে দেখলেন আপনি কই থেকে ডিভাইস অপারেট করছেন তার ওপর টিক দেয়া আছে। তো সবার মনে একটা প্রশ্ন যে গুগল আমাদের এই ঠিকানা জানল কিভাবে?

ওয়েব ব্রাউজ করার সময় এরকম হওয়ার মূল কারন আপনার ব্যবহৃত ব্রাউজার আপনার লোকেশন সম্পর্কে অবগত। তাই আপনি লোকেশন সম্পর্কিত কোন কিছু যখন অনুসন্ধান করছেন, ব্রাউজার আপনার লোকেশনটিকেও সার্ভিং সাইডে পাঠিয়ে দিচ্ছে, এতে করে আপনার লোকেশন এর সাথে সম্পর্কিত তথ্য আপনি আপনার সামনে পাবেন। আবার ব্রাউজার আপনার লোকেশন জানে দেখেই ম্যাপ ওয়েবসাইটে আপনার অবস্হানের ওপর টিক দেয়া রয়েছে।

একটা সহজ জিনিস আমরা সবাই জানি যে GPS (Global Positioning System) চালু করা থাকলে আপনার লোকেশন জানা খুবই সহজ একটি বিষয়। তবে ,আপনার GPS বন্ধ এবং আপনি কোনো নতুন জায়গায় রয়েছেন যেখানে কখনও GPS অন করেননি, অথচ ব্রাউজার আপনার লোকেশন জেনে যাচ্ছে। ধরুন আপনার কম্পিউটারে জিপিএস ফিচার নেই তবে আপনার কম্পিউটার দিয়ে লোকেশন রিলেটেড কোনো কিছু চেক করতে গিয়ে আপনি দেখলেন ব্রাউজার আপনার লোকেশন জানে, এটা কিভাবে সম্ভব?

তো বন্ধুরা, বেশ কিছু মাধ্যমে ব্রাউজার এখানে আপনার লোকেশন সম্পর্কে অবগত হচ্ছে। নিচে সেসব তুলে ধরা হলঃ

আইপি এড্রেস থেকে

গুগল, ফেসবুক সহ নানা সার্ভিস আইপি এড্রেস এর মাধ্যমে আপনার ওপর নজরদারি করছে। আপনার প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে আপনার আইপি এড্রেস ট্র্যাক করে। আপনি যে ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন সে ওয়েনসাইটের ভিজিটর লিস্টে আপনার আইপি এড্রেস নথিবদ্ধ হয়ে থাকছে। আর এই আইপি এড্রেস থেকেই আপনার লোকেশনটিকে ট্র্যাক করা হচ্ছে।

আপনার লোকাল আইএসপি থেকে

ডাটা সেন্টার কি?

আপনি হয়ত আপনারর বাসায় বা অফিসে লোকাল কোনো আইএসপি এর ইন্টারনেট সার্ভিস ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে লোকাল আইএসপির রিজিওনাল লোকেশন মূল ইন্টারনেট ডিস্ট্রিবিউশন আইএসপি এর কাছে নথিবদ্ধ রয়েছে। এখন মূল আইএসপি বা আমরা বলতে পারি টাইর-২ আইএসপি যদি সেই সব লোকাল আইএসপি এর লোকেশনগুলো সার্ভিং সার্ভারের জন্য পাবলিক করে রাখে, তবে আপনার আইএসপি থেকে ব্রাউজার আপনার লোকেশন জেনে যাবে। একইভাবে সেলফোন টাওয়ার এর লোকেশন অনুযায়ী আপনার লোকেশন ট্র্যাক করা হয়।

ওয়্যারলেস রাউটার থেকে

২.৪ গিগাহার্জ Vs ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড | হোম নেটওয়ার্কিং এর জন্য কোনটি বেস্ট?

আপনার কম্পিউটার যেখানে কোনো GPS নেই ধরুন সেটি একটি ওয়্যারলেস রাউটারের সাথে কানেক্টেড রয়েছে। এখানে সেই ওয়্যারলেস রাউটারের সাথে আরো একটি ডিভাইস কানেক্টেড রয়েছে যেটি কিনা GPS এনেবলড ডিভাইস, আর যেহেতু কানেক্টেড ডিভাইসের ম্যাক এড্রেস ওয়াইফাই রাউটারে সংরক্ষিত, সেহেতু  গুগল এর মত সার্ভিস রাউটারের লোকেশন আইডেন্টিফাই করার মাধ্যমে আপনার লোকেশন চিহ্নিত করবে।

আর সেই রাউটারটির স্হান পরিবর্তন করা হলে, নতুন স্হানে কোনো GPS এনেবলড ডিভাইস যদি তার সাথে কানেক্টেড হয় তবে রাউটারের লোকেশন আবার পরিবর্তিত হবে।

লোকেশন ট্র্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকার উপায়

তো এইভাবে সাধারনত এই লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেমটির মাধ্যমে ব্রাউজার ও নানা অ্যাপলিকেশন আপনার লোকেশন সম্পর্কে জানতে পারে। ব্যাপারটি অনেক সময় আমাদের কাছে উপকারী মনে হলেও অনেক সময় আমরা হয়ত নাও চাইতে পারি, কেউ আমাদের লোকেশন সর্বদা এভাবে ট্র্যাক করুক। আর এইজন্য আপনি খুবই সাধারন-সহজ কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারেন-

১. এমন কোনো জায়গা যেখানে আপনি চাচ্ছেন না আপনার লোকেশন ট্র্যাক হোক, সেখানে ওয়্যারলেস যেকোনরকম সংযোগের সাথে যুক্ত হওয়া থেকে আপনি বিরত থাকতে পারেন।

২. আপনি চাচ্ছেন না আপনার ওয়াইফাই রাউটার এর মাধ্যমে লোকেশন পাছ হোক, সেক্ষেত্রে আপনার ওয়াইফাই নামের সাথে _nomap যোগ করে দিতে পারেন (যেমনঃ RedEye_nomap)। এতে করে গুগল আপনার ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ককে ইগনোর করবে।

৩. মাইক্রোসফট এর একটি পেজ রয়েছে, যেখানে আপনি আপনার ডিভাইসের ম্যাক এড্রেস সাবমিট করতে পারবেন, এতে করে মাইক্রোসফট এর কোনো সার্ভিস আপনার লোকেশন ট্র্যাক করবে না।

৪. বিভিন্ন ওয়েবসাইট আপনার লোকেশন জানতে চাইবে, তা থেকে বিরত থাকুন। আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে লোকেশন সেটিংস অফ করে রাখতে পারেন।


এই ছিল লোকেশন ট্র্যাকিং এর ওপর একটি সাধারন আর্টিকেল। মূলত কিভাবে আপনার লোকেশন বিভিন্ন অনলাইন সিস্টেম এর নিকট চলে যাচ্ছে সে বিষয়ে আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ট্যাগ গুলিঃ

এরকম আরও আর্টিকেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close